ডেস্ক সংবাদ : ফটকের সামনে অস্পষ্ট লেখা রয়েছে উপজেলা কারাগার। তবে কোনো বন্দি নেই। ভেতরে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার ময়লা আবর্জনা। কারাগারের পুরো অবকাঠামো থাকলেও নেই তার কোনো কার্যক্রম।
এমন অবস্থা প্রায় ৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহের গৌরীপুর কারাগারের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারাগারটির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় দখল হয়ে যাচ্ছে এর খালি জায়গা। সেখানে চলছে নানা অপকর্ম।
এক সময় ময়মনসিংহ উত্তর জেলার পাঁচটি উপজেলা আদালতের আসামি এই কারাগারে রাখা হতো।
১৯৮৭ সালে উপজেলা পরিষদ গঠনকালে ময়মনসিংহের পাঁচটি উপজেলার সমন্বয়ে একমাত্র উপ-কারাগার হিসেবে গৌরীপুর পৌর শহরের গোলকপুরে থানা কারাগারটি নির্মাণ করা হয়। এক একর ৯০ শতক জমির ওপর ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কারাগারটিতে ছিল একটি নারী ও একটি পুরুষ ওয়ার্ড। কারাগারের অফিস সহকারীর আবাসন ও কারারক্ষীদের জন্য দুইটি আবাসিক বাসস্থানও নির্মাণ করা হয়।
আটজন কারারক্ষীর জন্য রয়েছে একটি ডরমেটরি ভবন।
কারাগারের জেলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকলেও ২০০৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে থানা কারাগারটি উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে স্থানান্তর করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদ বাতিল হওয়ায় থানা কারাগারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
সরেজমিনে কারাগারটিতে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে ভুতুড়ে অবস্থা।
কারাগারের জানালা, দরজা ছাড়াও রডসহ ইটগুলো খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় বিশাল জায়গায় ফেলা হচ্ছে পুরো পৌরসভা এলাকার বর্জ্য। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। কারাগারের অবকাঠামোর বাইরে খালি জায়গা দখলে নিচ্ছে একটি চক্র। সামনে জেলাখানা জামে মসজিদ। মসজিদটির নাম করে বিভিন্ন দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে একটি বাঁশমহাল, যেখান থেকে আসা আয় মসজিদে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয় না।
এ ব্যাপারে গৌরীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহফুজ ইবনে আইয়ুব বলেন, এই কারাগারের সহায় সম্পত্তি সমাজ সেবার তত্ত্বাবধানে থাকলেও বাস্তবে নেই। কোনো ধরনের কাগজপত্র অফিসে না থাকায় কিছুই করা যাচ্ছে না।
গৌরীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সুনন্দা সরকার প্রমা বলেন, সমাজসেবার কাছ থেকে চাবি নিয়েই পরিত্যক্ত কারাগারের ভেতর সাময়িকভাবে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এই জায়গা খাস খতিয়ানের কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,দেখে জানাতে হবে।
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, তিনি যতদূর জেনেছেন কারাগারের এই জায়গা ১ নম্বর খাস খতিয়ানে চলে গেছে। এ অবস্থায় সরকার চাইলে যেকোনো কাজে ব্যবহার করতে পারবে। তাছাড়া পৌরসভার বর্জ্য ফেলার কোনো জায়গা না থাকায় আপাতত ওইখানে ফেলা হচ্ছে।