উজিরপুর প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার হারতায় পরীক্ষা মূলক ভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আঙুর চাষে সফল হয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা শাজাহান তালুকদার। তার এই সফলতা খোদ উজিরপুরে রীতিমতো ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উদ্যোক্তা শাজাহান তালুকদার হারতা গ্রামের মৃত আব্দুল হাশেম তালুকদারের ছোট ছেলে।
শাজাহান তালুকদার ব্যতিক্রমী ফল-ফসল উৎপাদনের স্বপ্ন দেখেন। পরে তিনি আঙুর চাষে উদ্ধুদ্ধ হন।তিনি উজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধিকে জানান,আমার বসত বাড়ির সম্মুখে ২৮ শতাংশ জমিতে বহু আঙুরের চাড়া লাগিয়েছি। দেশের আনাচে কানাচে সবখানেই একটু উঁচু জমিতে এটি ভালো জন্মে।
এ জাতটি বছরের বারো মাসই ফল দেয়। গাছগুলোতে এবার প্রথম ফলন আসছে। স্বাদও খুব মিষ্টি। একেকটা গাছ থেকে ১০/১২ কেজি আঙুর তোলার আশা করছেন তিনি। এদিকে পরিচর্যাসহ এ যাবত কয়ক লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। তবে প্রতিটি আঙুরের স্বাদ অনেক মিষ্টি হওয়া সত্ত্বেও এ বছর কোনো আঙুর বিক্রি করেননি তিনি।
আত্মীয়-স্বজন ও আগত দর্শনার্থীদেরকে বিনামূল্যে খাওয়াচ্ছেন এবং উপহার হিসেবে দিচ্ছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি আমাকে একটি পলিনেট হাউস করে দেয় তাহলে আমি বছরে এখানে দু’বার আঙুর চাষ করতে পারবো।
সারা বছর আমার বাগানে আঙুর থাকবে। আঙুর এমন একটি ফল যা বৃষ্টি পেলে ফেটে যায়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাজাহান তালুকদারের আঙুর চাষের খবর ছড়িয়েছে। ফলে বাগান দেখতে আসছেন অনেকেই। আঙুর বাগানে এসে অভিভূত হয় মানুষ।
থোকায় থোকায় ঝুলে আছে কাঁচা পাঁকা টসটসে আঙুর। দেশের মাটিতে এমন দৃশ্য দেখার সাধ বহু দিনের। এখানের মাটিতে যে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে তা শাজাহান তালুকদার এর বাগানের ফলনই বলে দিচ্ছে।
স্থানীয়ারা বলেন যে আঙুর আমরা বাজার ছাড়া দেখিনা সেটি এখন এখানের মাটিতে চাষ হচ্ছে। তাই গাছ থেকে আঙুর ছিড়ে খাচ্ছি। এটি আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়। বাংলাদেশেও কৃষির বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে আঙুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে ধীরে ধীরে আশাব্যঞ্জক পরিচিতি পাচ্ছে।
এছাড়া উপযুক্ত বাজারমূল্য, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেলে একজন কৃষি উদ্যোক্তা অল্প জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে আঙুর চাষ করে তুলনামূলক কম সময়ে বেশি লাভবান হবে। যা নতুন কর্মসংস্থান তৈরীতে সহায়ক হবে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পুষ্টি চাহিদা মেটাবে দাবি করে স্থানীয় লোকজন। উজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কপিল বিশ্বাস আঙুর চাষের উদ্যোক্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আঙুর ফল আরো ভালো ফলানোর জন্য সকল ধরনের পরামর্শ দেয়া হবে।