নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের সদ্য বদলীর ঘোষণা আসা জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বদলীর খবর ছড়িয়ে পরলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল করেছে একদল নারী ও পুরুষ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষুব্ধরা ঝাড়ু মিছিল করে। এ সময় কৌশলে নিজ অফিস থেকে পালিয়ে যায় বহুল বির্তকিত সদ্য বদলীর ঘোষণা আসা জেলা প্রশাসক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুর বারোটার দিকে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ঝাড়ু হাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে সদ্য বদলীর ঘোষণা আসা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, কীর্তনখোলা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তারা অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বহুবার জেলা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের আবেদন করলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পাননি। এছাড়াও আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের আশায় বারবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলেও তারা কোনধরনের সাড়া পাননি। এ কারণে তারা ক্ষোভ থেকে এ কর্মসূচি পালন করেছেন।
বিক্ষোভ চলাকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিলো। অপরদিকে বিক্ষোভকারীরা সদ্য বদলীর ঘোষণা আসা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সদ্য বদলীর ঘোষণা আসা বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য জানার জন্য চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, কার্যালয়ের সামনে বিক্ষুব্ধরা ঝাড়ু মিছিল করার সময় কৌশলে নিজ অফিস থেকে পালিয়ে যায় সদ্যবিদায়ী জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন।
উল্লেখ্য, সদ্য বদলীর ঘোষণা আসা বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অতিরিক্ত অস্থায়ী ভোটকক্ষ ও দুর্গম কেন্দ্র দেখিয়ে প্রায় সাড়ে ৬২ লাখ টাকা এবং অন্যান্যখাতের মিলিয়ে কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যয় না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তার এসব দুর্নীতি ও অনিয়মকে আড়াল করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বরিশালের অধিকাংশ প্রথম সাড়ির গণমাধ্যম কর্মীদের নির্বাচন পর্ববেক্ষনের কার্ড দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে গণমাধ্যম কর্মীদের অনুসন্ধানে নিজের স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন করে কারাবরণ করা ডিসি খায়রুল আলম সুমনের দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। এরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সেই দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর সরকার তাকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করেছেন। তারস্থলে বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে মোঃ মামুন খন্দকারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।