খেলা ডেস্ক : সমর্থকদের হতাশায় ডুবিয়ে লিওনেল মেসি যখন পেনাল্টি মিস করলেন আর্জেন্টিনা তখন ১-০ গোলে পিছিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও এক গোল হজম করে দল পড়ে গেল পরাজয়ের শঙ্কায়। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর স্বরূপে দেখা দিলেন জাদুকর। প্রথমে গোল করিয়ে, পরে নিজেও গোল করে দলকে ফেরালেন সমতায়। স্পর্শ করলেন ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ড। পরে যোগ করা সময়ে এনসো ফের্নান্দেসের গোলে প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য গল্প লিখে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল শিরোপাধারীরা।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধরকর ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
দলের সমতা ফেরানো দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি। আসরে এটি তার অষ্টম গোল। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের চেয়ে এক গোলে এগিয়ে গেলেন রেকর্ড আটবারের বর্ষসেরা।
দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে আট গোল করলেন মেসি। ১৯৩০ সালে উদ্বোধনী আসরে এই কীর্তি গড়েন গিয়ের্মো স্তাবিলে।
.
বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল হলো রেকর্ড ২১টি। ১৯ গোল নিয়ে তার পিছনে এমবাপে।
বিশ্বকাপে টানা গোলের রেকর্ড বাড়িয়ে ৯ ম্যাচে নিয়ে গেলেন মেসি। ছয় ম্যাচের বেশি নেই আর কারো।
.
বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্টের রেকর্ডও বেড়ে হয়েছে ১০। ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেডে করা গোলটির যোগানদাতা ছিলেন মেসি। বিশ্বকাপে এটি তার রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট।
মেসির ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল অবশ্য সমর্থকদের হতাশার সাগরে ভাসিয়ে। বিশ্বকাপে এই নিয়ে মোট ৮টি পেনাল্টি নিলেন লিওনেল মেসি। তার মধ্যে ৪টিই মিস!
টেলিভিশন চ্যানেল আইটিভির তথ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও হয়েছে মেসির। বিশ্বকাপের একই আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হলেন তিনি। চলতি আসরে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি মিস করেছিলেন কিংবদন্তি।
ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে নেওয়া মেসির শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরের গোলকিপার মোস্তফা শোবের! শোবের যেন জানতেন এই দিক দিয়েই শটটা নেবেন মেসি।
পরে মেসির ফ্রি কিক পোস্টে লাগলে আবারও হতাশ হয় আকাশী-নীল সমর্থকরা। এরপর তো দ্বিতীয়ার্ধের সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প।
৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। পরের মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। চার মিনিটের মাথায় বক্সের মধ্যে থেকে মেসির বুলেট গতির শটে সমতা ফেরে স্কোরবোর্ডে। আর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিসেনের ক্রসে হেডে জয়সূচক গোরটি করেন এনসো ফের্নান্দেস।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই আনন্দে কেঁদে ফেলেন মেসি।