নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুরের ভরাট করা অংশ থেকে বালু সরিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অধ্যক্ষকে সাত দিনের সময় দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গতকাল রোববার (১৮ অক্টোবর) এ নির্দেশ দেয় সংস্থাটির জেলা কার্যালয়।
নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে বালু সরিয়ে পুকুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
এর আগে বরিশাল নগরের উত্তর মল্লিক রোডে অবস্থিত এই কলেজে রাতের আঁধারে ট্রাকে বালু এনে পুকুর ভরাট চলছে বলে মোবাইল ফোনে অভিযোগ পায় পরিবেশ অধিদপ্তর। পরে ওই এলাকা পরিদর্শন করে এর প্রমাণও পায় তারা। পরে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে ভরাট করা বালু সরিয়ে পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কলেজ অধ্যক্ষকে সাত কর্মদিবস সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এদিকে ভরাটের কথা স্বীকার করে কলেজ কর্তৃপক্ষ স্ট্রিমকে জানায়, ওই জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে মাটির পরীক্ষা বা সয়েল টেস্ট করা হয়েছিল। সেই কাজের অংশ হিসেবেই ডোবা ভরাট শুরু হয়। রোববার পরিবেশ অধিদপ্তর আপত্তি জানানোর পর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের আবাসনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ছাত্রাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (১৯৯৫) অনুযায়ী জলাধার ভরাট বা শ্রেণি পরিবর্তন নিষিদ্ধ। আইনে জলাধারের সংজ্ঞায় সরকারি ভূমি রেকর্ডে পুকুর, দিঘি, খাল, বিল বা জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত জমির কথা বলা হয়েছে। এতে ব্যক্তিমালিকানা থাকলেও জলাশয় ভরাটের অবাধ অধিকার নেই। তবে অপরিহার্য ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বরিশাল বিভাগের সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, বরিশালে জলাশয় রক্ষায় আদালতেও মামলা হয়েছে। সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুর ভরাটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে তারা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য কবি হেনরী স্বপন বলেন, এর আগে একাধিকবার সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুর ভরাটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নাগরিকদের আন্দোলনের কারণে সেসব উদ্যোগ সফল হয়নি।
অভিযোগে বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, শহরের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ও সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে ভর্তি হন। আর গ্রামের শিক্ষার্থীদের বড় অংশের ভরসা সরকারি বরিশাল কলেজ। তবে এখানে আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে। তাই কলেজের প্রবেশমুখে মসজিদ-সংলগ্ন এক একর জমির অর্ধেক অংশে ছাত্রাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।
অধ্যক্ষ দাবি করেন, মসজিদসংলগ্ন ডোবার অর্ধেক আগেই ভরাট করা হয়েছে। বাকি অংশে ক্লিনিকের বর্জ্য ও আশপাশের বাসিন্দারা ময়লা ফেলায় মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ডোবাটি বালু দিয়ে ভরাটের পর সেখানে টিন-কাঠের আবাসন তৈরি করা হলে অন্তত ২৫ শিক্ষার্থীর থাকতে পারত।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, সরকারি বরিশাল কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়ম না মেনেই পুকুরে বালু ফেলে ভরাটের কাজ শুরু করেছিল। খবর পেয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।