1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
বরিশালে সবজির দামে স্বস্তি - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফ্যামিলি কার্ডের ছবি তোলার নামে বিধবার স্বর্ণের দুল নিয়ে উধাও ছাত্রলীগের কমিটিতে ছেলের নাম, জামায়াত নেতা বললেন ‘আগে জানলে ত্যাজ্যপুত্র করতাম’ ওসিকেই ‘মাদকের ডিলার’ বললেন বিএনপি নেতা রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির নিয়োগ বাতিল মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন ঘরে বসে জাল টাকা তৈরি, ল্যাপটপ-প্রিন্টারসহ যুবক গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা গ্রেফতার গ্রাম পুলিশকে দায়িত্ব পালনে আরও গতিশীল হওয়ার আহ্বান এমপি জয়নুল আবেদীনের চরফ্যাশনে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব! গভীর রাতে পাচার, প্রশাসন নীরব তিন মন্দিরে সোনা চুরির ঘটনায় দম্পতি গ্রেপ্তার

বরিশালে সবজির দামে স্বস্তি

  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের বাজারে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র মাছের বাজারে। প্রায় সব ধরনের মাছ বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে, যা সাধারণ ও নিম্নআয়ের ক্রেতাদের নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে বরিশাল নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজার ও পোর্ট রোডের মাছের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন, পটল, ঢ্যাঁড়শ, চিচিঙ্গা এবং জালি কুমড়ার সরবরাহ বেশ ভালো। বর্তমানে প্রতি কেজি পটল ৩০, ঢ্যাঁড়শ ৪০, চিচিঙ্গা ৪০, ধুন্দল ৫০, ঝিঙা ৪০, করলা ৪০, ফুলকপি ৪০, বাঁধাকপি ৫৫ ও গাজর ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ১০ টাকা কেজি দরে, লাউ ৪০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ৩০ টাকায়। কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। অন্যদিকে, বাজারে নতুন আসা শীতকালীন শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। তবে পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে এসব সবজি কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছ কিনতে আসা দিনমজুর রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সবজির দাম একটু কমলেও মাছ ছোঁয়া যাচ্ছে না। পাঙ্গাশ-তেলাপিয়ার দামও যদি আড়াইশ টাকা হয়, তবে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচবে?”

সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, এলাকাভিত্তিক চাষ বাড়ায় এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে। সরবরাহ এমন থাকলে সামনে দাম আরও কমতে পারে।

অন্যদিকে, মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণেই এই মুহূর্তে দাম চড়া। পোর্ট রোডের মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, “পাইকারি বাজারেই আমাদের চড়া দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ছে।”

বাংলাবাজারে বাজার করতে আসা ছাইদুল বলেন, “কয়েক দিন ধরে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু মাছের বাজারে আগুন। নিজেদের নদ-নদীর মাছের দামও যদি মানুষের নাগালের বাইরে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ কী খাবে? বাজারে নিয়মিত তদারকি করা দরকার।”

ক্রেতা ফরহাদ বলেন, “বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে বলে মনে হয়। বৃষ্টির সময় সরবরাহ কম থাকার কথা বলা হয়েছে, আর এখন পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।”

তবে পাইকারি সবজির বাজারের দুলাল বাণিজ্যালয়ের ব্যবসায়ী শুভ বলেন, সবজির দাম বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তেমন কিছু করার নেই। তাঁরা যে দামে পণ্য কেনেন, সেই অনুযায়ী বিক্রি করেন।

অন্যদিকে, নগরীর পোর্ট রোডের পাইকারি মাছের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে মাছ কিনতে এসে অনেক ক্রেতাকেই বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে পছন্দের মাছ বাদ দিতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় চাষের মাছের চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে আকার ও প্রকারভেদে বিভিন্ন মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

জাহিদুল নামে এক ক্রেতা বলেন, “আগে এক কেজি চিংড়ি মাছ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় কেনা যেত। এখন সেই চিংড়ি মাছের দাম বেড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। তাই পছন্দের মাছ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশের মতো তুলনামূলক সস্তা মাছ কিনতে হচ্ছে।”

মাছের বাজারে অস্বস্তি থাকলেও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে মুরগির দামে। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরু ও খাসির মাংসের দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে বরিশালের বাজারে সবজির দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও মাছের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের স্বস্তি ফিরতে দিচ্ছে না। বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, যাতে অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে কোনো পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network