1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
ঝালকাঠিতে খেজুরের রস এখন ‌‘সোনার হরিণ’ - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ জানতে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন অসময়ে হঠাৎ নদীভাঙন, এক মাসে বিলীন ১৫ বসতবাড়ি ন‌ভেম্ব‌রের ম‌ধ্যেই সব জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক‌মি‌টি বরগুনায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত ভাণ্ডারিয়াকে মাদকমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়ে তোলার আহ্বান জেলা প্রশাসকের লালমোহনে কিশোরের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলা নারী কারাগারে পিরোজপুরের আইপি মিত্রা নজরুলসংগীতে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম, জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ এর আগাম খবরে সতর্ক গলাচিপা কৃষি বিভাগ ভারতে ৪ বছর কারাভোগ শেষে সন্তানসহ দেশে ফিরল দম্পতি

ঝালকাঠিতে খেজুরের রস এখন ‌‘সোনার হরিণ’

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ঝালকাঠি জেলার শহরতলি ও প্রত্যন্ত এলাকায় ধীরে ধীরে কমছে খেজুর গাছ। গাছিও তেমন একটা চোখে পড়ে না। রসের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে দামও। প্রতি লিটার খেজুর রস বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা দামে।

সন্ধ্যা হলেই খেজুর রস সংগ্রহের জন্য দূরদূরান্ত থেকে লোকজন গাছিদের কাছে সিরিয়াল দিচ্ছেন। আবার স্থানীয়দের সহায়তায় কিছু লোকজন শখের বসে রাতে রস চুরি করছে। গাছিরাও চাহিদা সামাল দিতে দিন-রাত সমানতালে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, খেজুর গাছের সংখ্যা আগের তুলনায় কম। এর মূল কারণ, পরিকল্পিতভাবে কেউ খেজুর গাছ রোপন বা বপণ করছেন না। আবার অনেক খেজুর গাছ ইট পোড়ানোর জন্য বিক্রি করা হচ্ছে।

এসবের কারণ জানতে চাইলে খেজুর গাছের মালিক আলম বলেন, গাছের অনেক বয়স হয়ে গেলে তা দুর্বল হয়ে যায়। তখন গাছের মাথা ছোট হয়ে শুকাতে শুরু করে, গাছটি মারা যায়। আগের মতো যারা গাছে ওঠে খেজুরের রস সংগ্রহ করত, তাদেরও এখন আর সেই শক্তি নেই।

গাছি আব্দুল আজিজ বলেন, এ বছর আমি ১৫ থেকে ২০টি খেজুর গাছ কেটেছি, রস মাত্র ৭/৮ হাড়ি হয়েছে। বিক্রি করলে প্রতি হাঁড়ির দাম ১৫০-১৭০ টাকা, যা লাভজনক নয়। অনেকে গাছ কাটার জন্য রাজি নয়। তাই আমি নিজে গাছ কেটে রস সংগ্রহ করছি।

অন্যদিকে, খেজুর রসের ক্রেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, আগে খেজুরের রস সস্তা খাওয়া যেত। এখন এক হাড়ির (৩ লিটার পরিমাপ) দাম ২০০ টাকা, যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।

যদি এই পরিস্থিতি থাকে, ভবিষ্যতে আমাদের পরবর্তী তৃতীয় প্রজন্ম খেজুরের রস চোখে দেখলেও খুব কমই দেখতে পাবে। ধনী লোকেরা হয়তো কিনে খেতে পারবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যে নাও জুটতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, ইট পোড়ানোর জন্য খেজুর গাছের চাহিদা বেশি থাকায় রসের উৎস খেজুর গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে খেজুর রস একটি বিলুপ্তপ্রায় উপাদান হবে।

এ নিয়ে বিষখালী নদীর তীরের সাচিলাপুর গ্রামের বাসিন্দা, আব্দুল মালেক, আব্দুল আজিজ, লিটু গোমস্তাসহ কথা হয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে। তারা জানান, অগ্রহায়ণ মাসের শুরু গাছের মাথার বিশেষ অংশ পরিস্কার করার মাধ্যমে রস বের করার উপযোগী করা হয়। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে রসের উৎপাদন শুরু হয়। অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ মাসে রসের মৌসুম থাকে। বিষখালী নদীর বেড়িবাধে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া খেজুর গাছ থেকে রস বের করা হয়।

যার জমির মাথায় বেড়িবাধের গাছ সেই ভোগ করে। আগে মাটির হাড়ি গাছে ঝুলিয়ে রস সংগ্রহ করা হতো। এতে কিছু দুষ্ট ছেলেপান ঢিল ছুড়ে নষ্ট করে। তাই প্লাস্টিকের বোতল গাছে ঝুলিয়ে রস সংগ্রহ করা হয়। বাহির থেকে যাতে রসের পরিমাণ বুঝা না যায় সেজন্য প্লাস্টিকের বোতলে রং মেখে দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও জানান, দুপুর দেড়টা থেকে গাছের বাকল কেটে পাত্র দেওয়া শুরু হয়। একেকটি গাছে (আকার ভেদে) ৫-৭ মিনিট সময় লাগে। সন্ধ্যা ৭-৮টার দিকে প্রথমবার রস নামানো হয়।

এরপর আবার রাত ১১/১২টার দিকে দ্বিতীয়বার, ভোরে তৃতীয়বারে রস নামানো হয়। তখন আবার অন্য পাত্র ঝুলিয়ে রাখা হয়, যেন দিনের রসও সংগ্রহ করা যায়। আমরা বিক্রির সময় মাটির হাড়ি মেপে ক্রেতাকে দেই। প্রতি হাড়িতে ৩ লিটার পরিমাণে থাকে। তাতে দাম রাখা হয় রসের মান ভেদে প্রতি হাড়ি ১৫০থেকে ২০০ টাকা।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network