নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন ভোলা রোডে একটি শিক্ষার্থী হোস্টেলের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মী ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, সংগঠনটির ববি শাখার সভাপতি মো. হাসিবুল ইসলামসহ কয়েকজন হোস্টেলে গিয়ে একটি কক্ষ দখল ও হোস্টেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, বাড়ির মালিকের কাছ থেকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য হোস্টেলটি পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে সেই দায়িত্ব বুঝে নিতেই তারা সেখানে যাচ্ছেন।
জানা যায়, কোভিড-১৯ মহামারির আগে হোস্টেলটি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। করোনা-পরবর্তী সময়ে সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বসবাস করে আসছেন।
সম্প্রতি হোস্টেলটি আবার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নেয় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির ববি শাখার সভাপতি মো. হাসিবুল ইসলামকে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পকেট গেটের বিপরীতে ভোলা রোডে অবস্থিত ওই হোস্টেলে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অরাজনৈতিক পরিবেশে বসবাস করছেন।
তাদের দাবি, গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর মো. হাসিবুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা হোস্টেলে প্রবেশ করে নিচতলার একটি কক্ষ দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় দুই শিক্ষার্থীকে কক্ষ ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে ওই দিন তারা চলে গেলেও ২২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবারও দলবল নিয়ে হোস্টেলে প্রবেশ করে একই ধরনের তৎপরতা চালানোর অভিযোগ করেন বাসিন্দারা।
পরে ২৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় সেখানে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এতে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ওই ছাত্রাবাসের সহকারী পরিচালক রায়হান তালুকদার বলেন, “২০১৯ সালের আগে আমাদের সংগঠনের ভাইয়েরা মেসটি পরিচালনা করে আসছেন। করোনা-পরবর্তী সময়ে আমরা আবার এটি পরিচালনা করতে চাচ্ছি।
বাড়িটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগরের অর্থ সম্পাদক মাকসুদ ভাইয়ের। আমরা তার কাছ থেকে পাঁচ বছরের পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। সামনের মাসের ১ তারিখ থেকে পরিচালনার দায়িত্ব আমাদের।”
তিনি আরও বলেন, “যারা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেন না, তারাই মূলত ঝামেলা করছেন।” ছাত্রাবাস পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতারা দাবি করেন, হোস্টেলের কয়েকজন শিক্ষার্থী বাড়ির মালিককে জিম্মি করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া দিচ্ছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল নিয়েও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে তাদের দাবি। বাড়ির মালিক বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানান তারা।
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা আবাসিক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শান্ত ও তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে হোস্টেল পরিচালনা নিয়ে বিরোধ তৈরির অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ওই দুই শিক্ষার্থী আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে তারাই হোস্টেল পরিচালনার দায়িত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে এ দাবির স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ববি শাখার সভাপতি মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, “নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমরা ছাত্রাবাসটির মালিকের কাছ থেকে পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা দায়িত্ব বুঝে নিতে সেখানে যাতায়াত করছি। আমাদের অনেক ভাইও সেখানে থাকে। এ বিষয় নিয়ে জল ঘোলা করার কোনো সুযোগ নেই।”
বাড়ির মালিক মাকসুদ বলেন, “শান্তরা জোর করে আমার বাসায় থাকছে। তারা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে না। নেমে যাওয়ার জন্য বললেও তারা নামেনি। আমার ব্যস্ততার কারণে সময় দিতে পারি না বিধায় হাসিবুলদের কাছে আগামী পাঁচ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছি।”
অভিযোগের বিষয়ে আবাসিক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার শান্ত বলেন, “আমার পড়ালেখা শেষ পর্যায়ে, আমার ঝামেলা করার কিছু নেই। আমার কাছে চলতি মাস ছাড়া ভাড়াও পাবে না। মেসের অন্য যারা আছে, তারা যেটা বলবে সেটাই হবে।”