নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ধারাবাহিক জবাবদিহির মধ্যে রাখা না গেলে রাষ্ট্র বিপথগামী হতে বাধ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এম জহির উদ্দিন স্বপন। তাঁর মতে, ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের মতো রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা অডিটোরিয়ামে সাপ্তাহিক ‘গৌরনদী পরিক্রমা’ পত্রিকার প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জবাবদিহির বাইরে থাকলে সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা না গেলে রাষ্ট্রও বিপথগামী হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জনগণের ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সংসদ নির্বাচিত করলে সরকারে থাকলেও তাঁকে জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হতো।
আর সরকারে না থাকলে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করতে হতো। জনগণের জবাব দেওয়ার অধিকার না দেওয়ার পরিণতিতে তাঁকে আজ ‘অসম্মানজনকভাবে’ জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমের জবাবদিহির বিষয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো বড় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিক হলেই তিনি জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারেন না।
প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত কর দিচ্ছে কি না, সাংবাদিক ও কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে কি না, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করছে কি না এবং সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুসরণ করছে কি না—এসব বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, জবাবদিহির কাঠামো তৈরি করতে না পারায় গণমাধ্যমের একটি অংশে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন মনোজগৎ’ তৈরি হয়েছে। ওই অংশ বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তির চরিত্র নিয়ে মূল্যায়ন ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের একটি অংশ বিভিন্ন ধরনের প্রচার চালিয়েছে। ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে ব্যবসায়িক সুবিধা, কর ফাঁকি, ব্যাংক থেকে সুবিধা নেওয়া কিংবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য কেউ কেউ এসব করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের একটি অংশ আন্দোলন ও শহীদদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাঁদের ভূমিকার কারণে একদল তরুণ রাজনৈতিক কর্মী জাতীয় পর্যায়ের নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি জবাবদিহিও নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে তার ক্ষমতা যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার করে এবং দেশের বা মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করে, সে জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘গৌরনদী পরিক্রমা’র প্রকাশক ও সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জহির। বিশেষ অতিথি ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া, সদস্যসচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ, সদস্যসচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন এবং পৌর জামায়াতের আমির আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মাদ হাফিজুর রহমান।
এ ছাড়া গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি খোন্দোকার মনিরুজ্জামান মনিরসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি এম জহির উদ্দিন স্বপন সাপ্তাহিক ‘গৌরনদী পরিক্রমা’র মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের সদস্য বি এম বেলাল। একই দিন দুপুর ১২টায় কবি-সাহিত্যিকদের মিলনমেলা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এম জহির উদ্দিন স্বপন।