1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
কলাপাড়ায় বাড়ছে গ্রামীণ সহিংসতা: জনজীবনে অস্থিরতার শঙ্কা - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাতের অন্ধকারে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে সাঁতরে বাঁচালেন পুলিশ সদস্য ওষুধ চুরির সময় ধরা, ১০০ রাকাত নামাজ পড়ে ছাড়া পেলেন যুবক কক্সবাজার সৈকতে নেমে এক পর্যটকের মৃত্যু নেপালে বন্যায় বহু প্রাণহানি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোক নেপালের বন্যায় ৯৫ মরদেহ উদ্ধার, ভারতেও বন্যার শঙ্কা সবুজ হাওলাদারের জানাজা সম্পন্ন, মায়ের জন্য পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ বাবুগঞ্জে ১৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার, ৬ মাসের কারাদণ্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের প্রতিবাদে ছাত্রদল নেতা ও মহিলা দল নেত্রীর সংবাদ সম্মেলন গলাচিপায় ১৭টি সন্ধি কচ্ছপসহ ১ জন আটক, বন বিভাগের অভিযান পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ, নওশেরের বিরুদ্ধে দুদক ও বিএমপিতে অভিযোগ

কলাপাড়ায় বাড়ছে গ্রামীণ সহিংসতা: জনজীবনে অস্থিরতার শঙ্কা

  • আপডেট সময় : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রামীণ সহিংসতা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিদিন কোন না কোন গ্রামে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে জমিজমার বিরোধ কেন্দ্রীক এই সহিংসতায় প্রাণহাণি পর্যন্ত ঘটছে। শতকরা ৭০ শতাংশ সহিংসতা ঘটছে পারিবারিক বিরোধকে ঘিরে। এতে বাড়ছে সহিংসতা। স্থানীয়দের দাবি নিরপেক্ষ সালিশ ব্যবস্থা না থাকা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে গত দেড় বছরে গ্রামীণ সহিংসতা বেড়েছে। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক চক্রের প্রভাবেও এই বিরোধ বাড়ছে। ফলে গ্রামীণ জীবনে এক ধরনের অস্থিরতা বাড়ছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাত্রায় এক ধরনের অজানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষক সৈকতকে (২৫) রড দিয়ে পিটিয়ে ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ১৪ এপ্রিল দুপুরে ধুলাসার ইউনিয়নের অন্ততপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই সহিংসতা ঘটে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সৈকত জানান, কয়েকবার তিনি ওখানকার বখাটে নয়নকে মাদক সেবন থেকে বিরত থাকতে বলেন। ওইদিনও গাঁজা সেবন করায় বকা দেন। এরপরে তিনি মোষ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পেছন থেকে দৌড়ে নয়ন তার বাবা কবির হাওলাদারকে নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় নয়নের চার-পাঁচ সহযোগিও হামলে পড়ে। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

ধানখালীর গন্ডামারি গ্রামের বাসীন্দা ইলিয়াস প্যাদাকে (৪৬) বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল দুপুরে তার উপর হামলা চালানো হয়। কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়ে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। জানালেন, একই উঠোনে বসবাস করেন পড়শি কালাম প্যাদাসহ সাত-আট জনে তার ওপর হামলা চালায়। জমিজমার বুঝ চাওয়ায় পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ইলিয়াস প্যাদা।

ক্যারম খেলার মতো তুচ্ছ ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ২৫ এপ্রিল খলিলপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, বজলুর রহমান হাওলাদার (৪৮), শামীম (২৭), আলম (৩৮) ও লিমন (২৪)। তুচ্ছ এমন ঘটনা নিয়ে অহরহ ঘটছে সহিংসতা। যা ক্রমশ বাড়ছে। গ্রামীণ জনপদকে অস্থির করে তুলছে।

মহল্লাপাড়া গ্রামের দরিদ্র বাসীন্দা আবু সালাম জানালেন, মায়ের জমিজমা যা ছিল তা তার অপর চার ভাইবোন চিকিৎসার কথা বলে (১৬ শতাংশ) তাদের নামে লিখে নিয়েছেন। এখন তার বসবাসের সমস্যা অনেক। এনিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তার স্ত্রী শিল্পী (৩৫), ছেলে ভ্যানচালক ইব্রাহিম (১৭) ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবরিনাকে (১৪) বেধড়ক মারধর করা হয়। সালামের দাবি চার-পাঁচ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ধার-দেনা করে চিকিৎসা করাতে তার ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মানুষটি জানালেন, বিচারের জন্য বিএনপির সেখানকার সভাপতির কাছে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু ফয়সালা হয়নি। মানুষটি চরম হতাশাব্যক্ত করে ন্যায্য বিচার দাবি করেন। ইউনিয়ন পরিষদগুলো এব্যাপাওে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। বিরোধ-বিবাদ মেটানোর আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে বলে ভুক্তভোগিরা মনে করেন। আবার স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও অবনতিকে কেন্দ্র করেও প্রতিমাসে একাধিক সহিংসতা ঘটে। এভাবে জমিজমা থেকে শুরু করে গ্রামের তুচ্ছ ঘটনার জের ধওে সহিংস ঘটনা ঘটেই চলছে। যা ক্রমশ বাড়ছে। আবার স্থানীয় এক ধরনের কিশোর-তরুণ রয়েছে যারা গ্রামীণ হাটবাজারে বসে বসে আড্ডা দেন, করেন গ্রামীণ জনপরে প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারের নিয়স্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। এরাও এসব ছোটখাটো বিষয়কে নিয়ে সহিংসতার অনুঘটক কিংবা ক্রীয়ানক হিসেবে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেন। কেউ কেউ সরাসরি ইন্ধন যোগায়। প্রবীণ মানুষের দাবি গ্রামীণ জনপদেও প্রবীণ ও লোকজ জ্ঞানের অধিকারী মানুষগুলোকে অবজ্ঞা করার এক ধরনের উদ্ভট মানসিকতায় সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছে। বর্তমান গ্রামীণ শাসন ব্যবস্থা নাই বললেই চলে। এক্ষেত্রে পারিবারিক ও ধর্মীয় অনুশাসন না থাকা এবং না মানাও অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা। ফলে বিরোধ মেটাতে কেউ আন্তরিক নন। উল্টো উষ্কে দেওয়া হয়। এটি এখন সামাজিক ব্যধিতে পরিণত হয়েছে।

কলাপাড়া হাসপাতালের দেয়া তথ্যানুসারে গত মার্চ মাসে গ্রামীণ সহিংসতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ২৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২০ জন। আর মহিলা ১১৩ জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি থেকেছেন ১০৯ জন। এছাড়া আরও শতাধিক ব্যক্তি জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেকে আবার গ্রামেই পল্লী চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

এভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গ্রামীণ সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ৭০ শতাংশ পারিবারিক সহিংসতা। জমিজমাসহ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতা ঘটছে। গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের এসব সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া সালিশ ব্যবস্থায় ভুক্তভোগী মানুষ আস্থা রাখতে পারছেন না। দেয়া হচ্ছে রাজনৈতিক রঙ। এভাবে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানো রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর বিরোধসহ নানা ধরনের পারিবারিক বিরোধও ক্রমশ বেড়েই চলছে। তবে পুলিশের সক্রিয়তা বাড়লে এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মানুষ।

কলাপাড়ার সরকারি মোজাহারউদ্দিন বিশ্বাস কলেজ এর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো.এনামুল হক বলেন, নৈতিক বিবর্জিত শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থায় নীতিহীন লোককে পুরস্কৃত করা, নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষকে তিরষ্কার করা এবং শুধুমাত্র ভোগ ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা এর জন্য দায়ী। এর ফলে বড়কে ছোটরা সম্মান করে না, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না। ছাত্র-শিক্ষকের পারস্পরিক সম্পর্ক শূন্যের কোটায় গিয়ে পৌছেছে। এছাড়া বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার জবাবদিহিতা বিহীন অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার সমাজের এই অস্থিরতার কারণ বলে তিনি মনে করছেন। এর কারণেই গ্রামীণ জীবনে সহিংসতা বাড়ছে।

এহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ফজলু গাজী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য ফেসবুকের ফ্রি-স্টাইল ব্যবহারের কারণে পরিবার থেকে শুরু সমাজব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধগুলো অধিকাংশ জমিজমার পাশাপাশি ফেসবুকের কারণে ঘটছে।

কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যে কোন ধরনের সহিংসতা বন্ধে পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। পারিবারিক বিরোধ কেন্দ্রীক মারামারি, সংঘাত অধিকাংশ সময় নিজেরাই মিটমাট করে ফেলেন। থানায় কেউ অভিযোগ দিলে যথাযথ আইনগত সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া জমিজমার বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা পালন করা হয়। তবে অপরাধী কিংবা সন্ত্রাসী ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলে তিনি জানালেন।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network