নিজস্ব প্রতিবেদক : নিত্যপণ্যের দাম আবার বাড়ছে। চাল,ডাল, তেল, মাছ, গোশত, ডিম, সবজি থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের এই ক্রমবর্ধমান অসামঞ্জস্যে সংসার চালাতে হিমশিম মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত সবাই। বাজারে গিয়ে নিজেরদের চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ আর অসন্তোষ। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায় এমন চিত্র।
চালের দাম গত মাসখানেক কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। ভারতের চাল আমদানির ফলে অনেক প্রকার চালের চালের দাম কিছুটা কমেও ছিল। কিন্তু তেলের দাম বাড়ানোর পর চালের দাম আবার কেজিতে ২ থেকে ৩টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া ডাল, চিনি, আটা, ময়দা সব ধরনের পণ্যের দামই গতসপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। সবজির বাজার এখনও উত্তপ্তই রয়েছে। স্বস্তি ফেরেনি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। ক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের সবজির দাম অনেক বেশি। বাজারে প্রতি কেজি দেশি টমেটো ৫০-৭০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০-১০০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১২০ টাকা, শিম (প্রকারভেদে) ৯০-১০০ টাকা, সজনে ২০০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা, পটল (হাইব্রিড) ৮০ টাকা, দেশি পটল ১৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ৯০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, ধনেপাতা (মানভেদে) ১৬০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৬০ টাকা, পেঁপে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০-১০০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। আর প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা করে। এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ওপরে উল্লেখিত ৩২টি সবজির মধ্যে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বা এর ওপরে দাম রয়েছে ২১টির। বাকি সবজির দাম রয়েছে ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।
খিলগাঁও কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা মো. আরিফ বলেন, সবজির দাম অনেক বেশি। রোজার সময় যে দাম বেড়েছিল, সেরকমই আছে বলা চলে। সবকিছুর দাম যদি এরকম বেশি থাকে তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ কীভাবে খেয়ে বাঁচবে!
আরেক ক্রেতা হাসান বলেন, সবজির দাম পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এখন তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে চাল, ডাল, লবনসহ অন্যান্য যে সব পণ্য আছে সেগুলোর দামও বাড়ছে। আমরা এখন সংসার চালাতে দিশেহারা। আমার এখন প্রতিনিয়ত অভাবে পড়ে যাচ্ছি। সামনে ধার কর্য করে সংসার চালাতে পারব কি না আল্লা জানেন।
এদিকে সবজি বিক্রেতাদের দাবি সবজির দাম কিছুটা কমে গেছে। সামনে আরও কমবে। অস্থির বাজারে স্বস্তি ছিল আলু-পেঁয়াজ, আদা-রসুনের দামে। তবে গতকাল দেখা গেছে, ধীরে ধীরে বাড়ছে এসব পণ্যের দামও। হয়তো টাকার অংকে সামান্য, তবুও নীরবেই যেন উর্ধ্বমুখী হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এসব পণ্যের দামে। গত সপ্তাহে ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজও ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। একইভাবে দেশি রসুন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেবল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় আদা ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজিতে। এছাড়া প্রতি কেজি লাল আলু ২০ টাকা, সাদা আলু ২০ টাকা, বগুড়ার আলু ৩০ টাকা, দেশি রসুন ৮০ টাকা, চায়না রসুন ১৬০-১৮০ টাকা, চায়না আদা ১৬০ টাকা, ভারতীয় আদা ১৪০ দরে বিক্রি হচ্ছে।
এখনও স্বাভাবিক হয়নি মাছ গোশতের বাজার। সব ধরনের মুরগির এখনও বিক্রি হচ্ছে উচ্চ দামেই। এরমধ্যে কক মুরগির দাম কিছুটা কমলেও তা এখনও অনেক বেশি। একইসঙ্গে গরু ও খাসির গোশত, ডিম এবং মাছের দামও রয়েছে আকাশচুম্বী। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৮২০ টাকা ও খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ১২৫০ টাকা কেজি দরে। বয়লার মুরগি ১৭৮-১৮৩ টাকা, কক মুরগি ৩৪০-৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৮০-৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকা, হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা দরে।
এখনও উচ্চমূল্যেই অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে মুদি দোকানের প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম। শুধু বুটের ডাল কমেছে কেজিতে ১০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। গতকাল প্রতি কেজি প্যাকেট পোলাওয়ের চাল ১৭০ টাকা, খোলা পোলাওয়ের চাল মান ভেদে ১৩০-১৫৫ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৫০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেশারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১০০ টাকা, ছোলা ৮০-৯৫ টাকা মাশকালাইয়ের ডাল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১৪২০-১৫৫০ টাকা, খোলা ঘি ১৪০০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১০৫ টাকা, খোলা চিনি ১০০ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৪৫ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৩০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলাচ ৫২০০ টাকা, দারুচিনি ৫৬০ টাকা, লবঙ্গ ১৪৫০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৩৫০ টাকা ও কালো গোল মরিচ ১২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।