1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
বরিশালে চার সন্তানের জননীর ঠাঁই হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অটোরিকশা আটকের পর চালকের ধাক্কায় ট্রাফিক পুলিশের মৃত্যু বরগুনায় আসামি ধরতে গিয়ে হামলায় আহত ৬ ডিবি পুলিশ বাউফলে সাইবার মামলায় উপ-খাদ্য পরিদর্শক কারাগারে চরফ্যাশনে যুবদল নেতার নেতৃত্বে ২ জামায়াত নেতাকে হাত-পা বেঁধে  মধ্যযুগীয় নির্যাতন ‘অর্থের বিনিময়ে’ এসএসসি পরীক্ষার্থীর খাতা লিখে দিচ্ছিলেন শিক্ষকরা অনলাইন সেবায় এসেছে বিসিসির পানি সরবরাহ বিভাগ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চালু হচ্ছে হেমাটোলজি ডে কেয়ার ইউনিট গলাচিপায় এনএসআই ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ৫০ লক্ষ রেনুপোনা জব্দ, ট্রাক আটক ভোলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষককে পুরস্কার প্রদান ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সচেতনতামূলক রেলী আয়োজন 

বরিশালে চার সন্তানের জননীর ঠাঁই হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: সন্তানের সুখের জন্য নিজের সুখ আর স্বপ্ন বিলিয়ে দিতে পারেন যিনি তিনি হলেন মা। অথচ সন্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিজের সুখের খোঁজে ভুলে যাচ্ছেন সেই মাকেই। আর তাই জীবনের অন্তিম মুহূর্তে কখনো কখনো বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে ঠাঁই হয় দুঃখিনি মায়ের।

এমনই একজন বৃদ্ধা মা বরিশালের ঊষা রাণী। যিনি চার সন্তানের জননী হয়েও জীবনের শেষ মুহূর্তটা কাটছে বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে একাকিত্বে। জীবনের পুরোটা সময় সন্তানদের মানুষ করতে করতেই কেটে গেছে তার জীবন।

নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানদের সুখের জন্য লড়াই করেছিলেন প্রতিনিয়ত। মানুষের বাড়িতে কাজ করে চার ছেলেমেয়ের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। কিন্তু বয়সের ভারে যখন একটু আশ্রয় আর স্নেহের প্রয়োজন হলো, ঠিক তখনই বৃদ্ধা মাকে খেলনার মতো ছুড়ে ফেলেছে সন্তানরা।

উষা রাণী জানান, নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে বাড়িঘর। ‎একটা সময় বড় ছেলের পা ধরে অনুরোধ কাছেন একটু আশ্রয়ের জন্য। তবুও মন গলেনি তার। ঘরের কোনেও ঠাঁই হয়নি উষা রাণীর। ছোট ছেলে তার ছেলের কথায় ঘর থেকে নামিয়ে দিয়েছে। অপর ছেলের বউ আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। একমাত্র মেয়ের বাসায় উঠেছিলেন ঊষা। সেখানেও ঠাঁই হয়নি। মেয়ে জামাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‎এক সন্তানের দরজা থেকে আরেক সন্তানের দরজায় ঘুরেও আশ্রয় মেলেনি। তাই শেষ বয়সে নিকট আত্মীয়ের সহযোগিতায় ঠাঁই হয়েছে কাউনিয়ার বেসরকারি বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানেই মানবেতর জীবন কাটছে তার। তবে সন্তানদের অবহলো থেকে বৃদ্ধাশ্রমের তিনবেলা খেয়ে বেশ ভালই আছেন এই আশ্রমে।

তবে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এত রাগ, অভিমান আর কষ্টের পরেও ঊষা রাণীর একটু ক্ষোভও নেই সন্তানদের প্রতি। তিনি আজও সন্তানদের জন্য দোয়া চাইছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। তারা যেন ভালো থাকেন সেটাই কামনাই করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি মারা যাওয়ার আগে যেন আমার কোনো সন্তানের কিছু না হয়।

তারা যেন সুখে এবং শান্তিতেই থাকে। বৃদ্ধাশ্রমের আরেক নিবাসী বৃদ্ধা শেফালী বেগম বলেন, অল্প বয়সে বাবা-মা বিয়ে দিয়েছে। অল্প বয়সেই বিধবা হয়েছি। দিনমজুরের কাজ করে একমাত্র ছেলেকে বড় করেছি। ঈদে শশুর-শাশুড়িকে হাজার টাকায় মার্কেট করে দিয়েছে। আমার কপালে জোটেনি কিছু। জুটেছে শুধু ছেলের হাতে মারধর।

শুধু ঊষা রাণী এবং শেফালী বেগম নয়, বৃদ্ধাশ্রমের আশ্রিতা প্রতিটি মায়ের বুকেই চেপে আছে আকাশ সমান দুঃখ, কষ্ট আর অবহেলার গল্প। যেই বয়সে নাতি-নাতনিদের সাথে খুনসুটিতে মেতে থাকার কথা সেই বয়সে নিস্তব্ধ আর একাকিত্বে কাটছে তাদের জীবন।

তারা বলেন, বুড়ো হয়ে গেলে বাবা-মা সন্তানদের কাছে বোঝা হয়ে যায়। কীভাবে ঠেলে ফেলে দেবে সেই চিন্তা করে। তবুও সেই সন্তানদের অভিশাপ নয়, বরং তাদের উন্নতি আর সাফল্য কামনা করছেন তারা। মায়ের ভালোবাসা এমনই নিঃস্বার্থ, অটুট এবং চিরন্তন। মা দিবসে নয়, প্রতিদিন হোক মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও যত্নের প্রতিশ্রুতি।

বৃদ্ধাশ্রম, বয়স্ক পুনর্বাসন কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, একসময় ১৩০ শয্যার বৃদ্ধাশ্রম ছিল। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় চলতো প্রতিষ্ঠান। তবে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সাহায্য সহযোগিতা কমে গেছে। এখন ভাড়া বাসায় ৬০ শয্যার বৃদ্ধাশ্রমে ৬০ জন মা আছেন। তবে অর্থ সংকটে তাও বন্ধের পথে।

তিনি বলেন, মায়েরা একসময় বোঝা হয়ে যায়। তবে প্রতিটি সন্তানের উচিত মায়েদের যত্ন নেওয়া, তাদের ভালোবাসা। মা-বাবা না থাকলে তাদের আর পাওয়া যাবে না। ঊষা রাণী আর শেফালীদের গল্প আমাদের সামনে তুলে ধরছে এক কঠিন প্রশ্ন! আমরা কি সত্যিই বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করছি? নাকি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে মায়েদের উপহাস করছি?

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network