1. diggilseba@gmail.com : admin :
  2. ashadul@barisalcrimetrace.com : Ashadul Islam : আসাদুল ইসলাম
  3. hafiz@barisalcrimetrace.com : barisal CrimeTrace : barisal CrimeTrace
  4. mahadi@barisalcrimetrace.com : মাহাদী হাসান : মাহাদী হাসান
ঘুষ না দেওয়ায় ‘ভুল’ রায় দিলেন এসিল্যান্ড - বরিশাল ক্রাইম ট্রেস
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
অটোরিকশা আটকের পর চালকের ধাক্কায় ট্রাফিক পুলিশের মৃত্যু বরগুনায় আসামি ধরতে গিয়ে হামলায় আহত ৬ ডিবি পুলিশ বাউফলে সাইবার মামলায় উপ-খাদ্য পরিদর্শক কারাগারে চরফ্যাশনে যুবদল নেতার নেতৃত্বে ২ জামায়াত নেতাকে হাত-পা বেঁধে  মধ্যযুগীয় নির্যাতন ‘অর্থের বিনিময়ে’ এসএসসি পরীক্ষার্থীর খাতা লিখে দিচ্ছিলেন শিক্ষকরা অনলাইন সেবায় এসেছে বিসিসির পানি সরবরাহ বিভাগ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চালু হচ্ছে হেমাটোলজি ডে কেয়ার ইউনিট গলাচিপায় এনএসআই ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ৫০ লক্ষ রেনুপোনা জব্দ, ট্রাক আটক ভোলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষককে পুরস্কার প্রদান ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের সচেতনতামূলক রেলী আয়োজন 

ঘুষ না দেওয়ায় ‘ভুল’ রায় দিলেন এসিল্যান্ড

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈধ কাগজপত্র এবং আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের টাকা না দেওয়ায় প্রতিপক্ষের পক্ষে মিসকেসের রায় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

নোটিশ গোপন করে এবং শুনানির ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে তড়িগড়ি করে এ রায় প্রদান করা হয়েছে। এই অনিয়মের সঙ্গে অফিসের প্রধান সহকারী তপন কুমার ও চেইনম্যান এনামুল হক সরাসরি জড়িত বলে ভুক্তভোগী জমির উদ্দিন দাবি করেছেন।

রোববার (১০ মে) প্রতিকার চেয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর গ্রামের আব্দুল হামিদের ওয়ারিশগণ পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। এসএ রেকর্ডে ত্রুটি হওয়ায় ১৯৮৪ সালে তারা রৌমারী সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন।

পরে ১৯৮৫ সালে আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। সেই রায়ে নামজারি করে তারা নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করেন। সম্প্রতি নাগেশ্বরী উপজেলার আব্দুল হাই ও বাগুয়ারচর গ্রামের মোহাম্মদ আলী ওই নামজারি বাতিলের জন্য রৌমারী উপজেলা ভূমি অফিসে দুটি মিসকেস আবেদন করেছেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১৮ মার্চ মামলার শুনানির তারিখ জানতে তিনি ভূমি অফিসে গেলে এসিল্যান্ড রাফিউর রহমান তাকে প্রধান সহকারী তপন কুমার ও চেইনম্যান এনামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

তপন ও এনামুল শুনানির তারিখ ৬ মে নির্ধারণ হয়েছে জানিয়ে রায়ের বিনিময়ে তারা ‘খরচাপাতি’ হিসেবে ৬ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান বদর স্বাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ভুক্তভোগীর দাবি, ৬ মে শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ওই কর্মচারী এবং এসিল্যান্ড যোগসাজশ করে বিবাদী পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই গত ২৬ এপ্রিল তাদের বিপক্ষে রায় প্রদান করেন।

রায়ের কপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাদীপক্ষ (জমির উদ্দিনরা) হাজির ছিলেন এবং তাদের কাগজপত্র ভুয়া। অথচ জমির উদ্দিনের দাবি, তারা হাজির হওয়ার সুযোগই পাননি এবং আদালতের রায়ের কপি থাকার পরও সেটিকে ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জমির উদ্দিন বলেন, আমাদের সব বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র টাকা না দেওয়ায় আমাদের পৈত্রিক জমি নিয়ে নয়ছয় করা হচ্ছে। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এসিল্যান্ডের কাছে গেলে তিনি দায়সারাভাবে আপিল করার পরামর্শ দেন। আমরা এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামান বদর অভিযোগ করেন, খোদ সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই এখন প্রকাশ্য ঘুষ দাবি করছেন। আমার সামনেই অফিসের লোকজন ভুক্তভোগীর কাছে ৬ লাখ টাকা দাবি করেছে, তা সত্য। তারা সরাসরি জানান, ওই টাকা দিলেই রায় পক্ষে যাবে।

ভূমি অফিসের সীমাহীন দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রৌমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কলেজ প্রভাষক আবুল হাসেম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারের স্বার্থ ছাড়া জনগনের স্বার্থ দেখেন না এই এসিল্যান্ড। এছাড়া এই অফিসটিতে দুর্নীতির কোনো শেষ নেই। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এর ফলে সাধারণ মানুষ সঠিক ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ঘুষ দাবির বিষয়টি অফিসের চেইনম্যান এনামুল হক অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেব না। ঘুষ প্রসঙ্গে এসিল্যান্ড স্যারের সঙ্গে কথা বলেন।’ অফিসের প্রধান সহকারী তপন কুমার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এসিল্যান্ড স্যার ও চেইনম্যান এনামুল ঘুষ নিয়েছেন কি-না তা আমার জানা নেই।’

রৌমারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাফিউর রহমান বলেন, আমি নথিপত্রে যা পেয়েছি, সেই অনুযায়ী রায় দিয়েছি। রায় যদি কারো পছন্দ না হয়, তবে তারা রিভিউ করার সুযোগ পাবেন। ঘুষ নেওয়া হয়নি, তাদের পক্ষে রায় না দেওয়ায় তারা এসব মিথ্যা বলছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নপূর্ণা দেবনাথের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে খুদে বার্তা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© All rights reserved © 2025 Barisal Crime Trace
Theme Customized By Engineer BD Network