নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
১৬ জানুয়ারি সকালে রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
”কারো লেজুড়বৃত্তি নয়, লক্ষ্য ইসলাম কায়েম”
সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম স্পষ্ট ভাষায় দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেশে ইনসাফ ও ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েমের লড়াই করছি। মানুষ এখন প্রচলিত বড় দলগুলোর দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। আমরা কোনো জোটে গিয়ে নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিতে চাই না।
২৬৮ আসনে প্রার্থী দেওয়ার অর্থ হলো— দেশের মানুষ যেন প্রতিটি প্রান্তে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে পারে। আমরা কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে আসিনি, বরং জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এককভাবে লড়ব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু হলে হাতপাখা দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
মহাসচিবের সাংগঠনিক বক্তব্যে উঠে এসেছে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র, আমরা প্রস্তুত বলেন।
দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ সাংগঠনিক প্রস্তুতির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। প্রার্থীদের নাম ঘোষণা পরবর্তী নির্দেশনায় তিনি বলেন, আমাদের ২৬৮ জন প্রার্থী কোনো হঠাৎ করে আসা প্রার্থী নন। তারা প্রত্যেকেই মাঠ পর্যায়ে সামাজিক ও ধর্মীয় কাজের মাধ্যমে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত। কেন্দ্র থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত আমাদের যে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পাহারাদার হিসেবে থাকব। বড় দলগুলো আমাদের ছোট করে দেখার ভুল করলে তার মাশুল তাদের ভোটের দিন দিতে হবে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে তাদের ভোট বৃদ্ধি করেছে। অনেক আসনেই তারা দ্বিতীয় অবস্থানে চলে এসেছে। এই ২৬৮ আসনের ঘোষণা মূলত।
এককভাবে লড়ে তারা প্রমাণ করতে চায় যে, তাদের ভোট ব্যাংক ছাড়া এখন সরকার গঠন করা কঠিন।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে বিকল্প খোঁজা ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রধান পছন্দ হিসেবে উপস্থাপন করা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২৬৮টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের সক্রিয়তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের ভোট ব্যাংকে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার আসনগুলোতে হাতপাখা প্রতীক যদি উল্লেখযোগ্য ভোট টানে, তবে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যেতে পারে।
১৬ জানুয়ারির এই ঘোষণা তাই কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে এক বড় রকমের ওলটপালটের ইঙ্গিত।