উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম সাতলায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে মাইনুল মিয়া নামে এক মৎস্যঘের ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত মাইনুল মিয়াকে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মাইনুল মিয়া ওই এলাকার মৃত সাহেব আলী মিয়ার ছেলে। তিনি মৎস্যঘের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হামলার ঘটনায় একই এলাকার মৃত তুফান...
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পশ্চিম সাতলায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে মাইনুল মিয়া নামে এক মৎস্যঘের ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলায় গুরুতর আহত মাইনুল মিয়াকে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মাইনুল মিয়া ওই এলাকার মৃত সাহেব আলী মিয়ার ছেলে। তিনি মৎস্যঘের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হামলার ঘটনায় একই এলাকার মৃত তুফান বিশ্বাসের ছেলে মনির বিশ্বাসকে অভিযুক্ত করেছেন আহত ব্যক্তি ও তার স্বজনরা।
আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনির বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি গভীর রাতে এলাকার বিভিন্ন দোকানে গিয়ে দোকানদারদের ঘুম থেকে ডেকে তুলে সিগারেট ও খাদ্যপণ্য নেওয়ার চেষ্টা করতেন। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে মাইনুল মিয়া আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।
শনিবার সন্ধ্যায় পূর্বের এসব ঘটনা নিয়ে মাইনুল মিয়া মনির বিশ্বাসকে প্রশ্ন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গভীর রাতে দোকানের শাটারে ধাক্কাধাক্কি করে দোকানদারদের ঘুম থেকে জাগিয়ে সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঠিক হয়েছে কি না, তা জানতে চান মাইনুল।
এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মনির বিশ্বাস ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাইনুল মিয়ার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। আহত ও স্থানীয়দের দাবি, হামলার সময় তার পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাইনুল মিয়া অভিযোগ করেন, মনির বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য তাকে একাধিকবার বলা হয়েছিল। এর জের ধরেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করা হয়েছে বলে তার দাবি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও মনির বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা, জুয়া ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর অভিযুক্ত মনির বিশ্বাস এলাকা ছেড়ে পালিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, আহত ব্যক্তি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা বা লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আহত মাইনুল মিয়ার স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এলাকায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।