নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগর ইউনিয়নে শৈলা গ্রামে কবর থেকে জরিনা বেগম নামের এক নারীর মরদেহ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে।
জরিনা বেগম (৬৫) রহমানের হাট গ্রামের মো. আলম হাওলাদারের স্ত্রী। তিনি গত ২৭ মে সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির রান্নাঘরে বজ্রপাতে মারা যান। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, গত ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ফজরের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার সময় স্বামী আলম হাওলাদার দেখেন কবরের মাটি খোঁড়া। বাঁশ-চাটাই সরানো। কবরের ভেতর মরদেহ নেই, কাফনের কাপড়ও নেই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলম হাওলাদার বলেন, ফজরের সময় গিয়ে দেখি কবর খোঁড়া। মরদেহ নাই। স্থানীয়দের ডেকে এনে কোদাল দিয়ে মাটি ভরাট করেছি। এখন রাত হলে ঘর থেকে বের হতে পারি না। কবরস্থানের পাশ দিয়ে যেতেও বুক কাঁপে। আমরা আতঙ্কে আছি।
ছেলে মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ কবরস্থানে আরও ৮-১০টি কবর আছে। কিন্তু দুর্বৃত্তরা শুধু আমার মায়ের কবরটাই খুঁড়েছে। প্রতিদিন মায়ের কবর জিয়ারত করে মনের সান্ত্বনা পেতাম। এখন কার কবর জিয়ারত করব? আমি এ ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
নিহতের ননদ মরিয়ম বেগম বলেন, গত ২৭ মে সন্ধ্যার সময় আমার ভাবি রান্নাঘরে বসে কাঁঠালের বিচির খোসা আলাদা করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি ছিটকে পড়েন। তার সামনেই তিনটি নারিকেল গাছসহ মোট ৫টি গাছ জ্বলে গেছে।
জরিনা বেগমের আত্মীয় মো. মোতালেব হোসেন হাওলাদার বলেন, আশেপাশের কোনো কবরেই হাত দেওয়া হয়নি। শুধু আমার মামির কবরই টার্গেট করা হয়েছে। ফকির-তান্ত্রিকরা যাদুর জন্য এমন করতে পারে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. ফয়জুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসলামে মৃত ব্যক্তির মরদেহের অসম্মান হারাম। জীবনে প্রথম এমন ঘটনা শুনলাম। আল্লাহ এদের হেদায়েত দান করুন।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. আব্দুল কাদের বলেন, বজ্রপাতে মারা যাওয়া মরদেহে আলাদা কোনো বিশেষত উপাদান থাকে না। এটি সম্পূর্ণ কুসংস্কার। ফকিররা জাদুমন্ত্রের জন্য এমন কাজ করে থাকতে পারে। বজ্রপাতে হাই ভোল্টেজ স্বাভাবিক বিদ্যুতের মতো। এখান আলেদা কিছু থাকে না।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য টিপু বেপারি। তিনি বলেন, জরিনা বেগম খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার মরদেহ চুরি মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
স্থানীয় কলেজের প্রভাষক জসিম উদ্দিন বলেন, আদর্শনগর ইউনিয়নে এ প্রথম এমন ঘটনা ঘটল। আমরা সবাই আতঙ্কিত। রাতে কবরস্থানে পাহারার ব্যবস্থা করা হোক। কাজীরহাট থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মরদেহ চুরির অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।