রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি: মাদকাসক্ত বেকার বাবার নিত্য অভাব অনটনের সংসারে ঠিক মত ভাতই জুটতো না । নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থার মধ্যে লেখাপড়ার খরচ বহন ছিল দুঃসাধ্য ।
একটি স্কুল ড্রেস না থাকার কারনে টানা ৪ মাস স্কুলে পা দেয়নি বরিশালের উজিরপুরে চুরি চেষ্টার অপবাদে রাতভর খুঁটির সাথে বেধে রাখা ক্ষুধার্ত বাবার মুখে চা-রুটি তুলে দেয়া আলোচিত শিশু কন্যা তুবা (৯)। স্কুল জীবন থেকে প্রায় ছিটকে পড়ছিলো ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশু কন্যাটি।
দীর্ঘদিন পর বৃহস্পতিবার ( ১লা অক্টোবর) সকালে নতুন স্কুল ড্রেস পড়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা’র হাত ধরে রাজকন্যার মতো মাথা উচু করে নিজ বিদ্যাপীঠ উপজেলার বামরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায় সে।
স্কুলে প্রবেশ করার পরে তাকে করতালি দিয়ে তার স্কুল শিক্ষক ও সহপাঠিরা স্বাগত জনায়। দীর্ঘদিন পরে তুবার বিদ্যালয়ে ফেরায় দারুন খুশি তার সহপাঠিরা। তুবার মা জান্নাতুল বলেন, স্কুল ড্রেস না থাকায় গত ৪ মাস তার মেয়ে স্কুলে যায়নি।
উজিরপুর উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় আজ মেয়ে পুন:রায় নতুন করে শিক্ষা জীবন শুরু করায় তিনি ভীষণ খুশি ও কৃতজ্ঞ । বামরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর কবির মামুন বলেন,তুবা আক্তার (৯)।বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী।
দীর্ঘ দিন ধরে সে বিদ্যালয়ে অনপুস্থিত ছিলো। আমরা তার প্রতি গুরুত্ব সহকারে খেয়াল রাখবো, তুবা যেন পিছনের দিনগুলোর লেখা পড়ার ঘাটতি পুষিয়ে উঠতে পারে। সহপাঠিরা বলে, তুবা স্কুলে ফিরে আসায় আমরা মহাখুশি।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, আমরা শিশু তুবার লেখা পড়ার দায়িত্ব নিয়েছি। প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষক তুবার দিকে আলাদা ভাবে নজর রাখবেন। তাকে নতুন স্কুল ড্রেস দেয়া হয়েছে। তার লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ আমরা বহন করবো ।
প্রসঙ্গত, চুরির চেষ্টার অপবাদে মাদকসেবী অনিক সরদারকে খুঁটির সাথে বেধে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতভর নির্যাতন করা হয়। পরের দিন শনিবার (২৬ সেপ্টেস্বর) ভোরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ক্ষুধার্ত বাবার মুখে চা-রুটি,পানি তুলে দেয় শিশু কন্যা তুবা।
বাবার প্রতি মেয়ের এ অকৃত্রিম ভালোবাসার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এরপর তুবা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ান উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্নজন।
তার বাবা অনিক সরদারকে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে রিহ্যাবে দেওয়া হয়। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পরে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। তুবার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া হয়। তাদের আঁধার ঘরে আলোর দেখা মেলে।