নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধা যেন কোনোভাবেই অযোগ্য ব্যক্তির হাতে না যায়, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
তিনি বলেছেন, প্রকৃত সুবিধাভোগী পরিবার চিহ্নিত করতে তথ্য সংগ্রহের প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব, প্রভাব কিংবা অনিয়মের সুযোগ দেয়া যাবে না।
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের হলরুমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
বরিশাল জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা ৩৬ জন তথ্য সংগ্রহকারীর মধ্যে ট্যাব বিতরণ করা হয়। এসব ট্যাবের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করা হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এর প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করতে হলে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি পরিবারের বাস্তব আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারীদের কাজের ওপরই নির্ভর করবে উপকারভোগী নির্বাচনসহ পরবর্তী কার্যক্রমের নির্ভুলতা। তাই দায়িত্ব পালনে সততা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখতে হবে।
কোনো ব্যক্তি বা মহলের প্রভাবে পড়ে তালিকা তৈরি করা যাবে না। সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণের পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সফলতা অনেকটাই নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের মানের ওপর।
একটি ভুল তথ্যের কারণে প্রকৃত উপকারভোগী তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন, আবার অযোগ্য কেউ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ কারণে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করতে হবে। অনুমান, ব্যক্তিগত পরিচয় কিংবা তাড়াহুড়ার ভিত্তিতে কোনো তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ইকবাল কবির, সহকারী পরিচালক জাবির আহমেদসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।