বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল মহানগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় অবৈধ পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে কারখানার ম্যানেজার মো. রমিজকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানা থেকে প্রায় ২৫০ কেজি প্রস্তুতকৃত নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮০ হাজার টাকা।
গতকাল দুপুর ২টা ৪০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিসিক শিল্প এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর মুহাম্মদ ইশতিয়াকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ‘বরিশাল পিপি প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। পাশাপাশি প্যাকেজিং তৈরিতে ক্ষতিকর রঙ ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সনদ না থাকার বিষয়টিও выяв করা হয়।
এসব অপরাধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৬ক ও ১৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে কারখানার ম্যানেজার মো. রমিজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে আমদানি করা ৫০ বস্তা উন্নতমানের পলিপ্রোপিলিন (পলিথিন তৈরির কাঁচামাল) পাওয়া যায়। এসব কাঁচামাল বরিশাল কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে আমদানি করা কাঁচামালের যথাযথ ভ্যাট চালান প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চালান দেখাতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
অভিযানের আগে এনএসআই সদস্যরা ব্যবসায়ী পরিচয়ে ছদ্মবেশে প্রতিষ্ঠানটি থেকে নমুনা পলিথিন সংগ্রহ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে গোপনে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে এনএসআই, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।